Audio

শ্রীকৃষ্নের রাসযাত্রা ও একটি রুপকথা

শ্রীকৃষ্নের রাসযাত্রা আমাদের বাড়ির এক বিরাট আকর্ষন ছিল। দুর্গাপুজায় যেমন আচার বিচার্, রীতি নীতি উপবাস করতে দিন কেটে যেত রাসযাত্রা ছিল তার বিপরিত। সকাল থেকে ঠাকুরের মন্দির সাজানো, প্যান্ডাল সাজানো শোলার হরেক রকমের পাখি আর কাগজের তৈরি চেন দিয়ে। রেলওয়ে স্টেশনে একটি প্রস্তর ফলকে “শ্রীশ্রী নন্দনন্দন জিউর এর রাসযাত্রা উপলখ্খ্যে এইখানে নামুন” লেখাটি আমাদের গর্বের বস্তু ছিল। আমাদের মাঠে যাত্রাপালা আর পাশের মিত্তিরদের মাঠে পুতুলনাচ আর খাবার দাবার জিনিষ। সে এক দিন ছিল; জিলিপি ভাজা সুরু হলেই কে প্রথম জিলিপি আনতে পারবে সেই নিয়ে কাকাদের সাথে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। আর পুতুল নাচের রহস্য সন্ধান করতে বেশ কয়েকটা বসন্ত পার হয়ে গেছে।

এবার আসা যাক আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু সন্ধাবেলার প্রোগ্রাম এ। রাসপুজো শেষ হলে ঠাকুরনাচের তালে তালে অামাদের চৈতন্য মহাপ্রভু স্টাইল এ নাচ চলত একবার শ্যাম আর একবার রাধা কে কেন্দ্র করে। কখনো “শ্যাম নব বিশরো বামে” আবার কখনো বা “রাধে রাধে রাধে রাধে, শ্রীরাধে জয় রাধে রাধে”। কথায় আছে না ছোটো বেলার শেখা কখনো বৃথা যায় না তাই এখনও সেই গৌড়ীয় নৃত্য সুযোগ পাওয়া মাত্রই প্রকাশ্যে চলে আসে।

আসল উত্তেজনা ঘিরে থাকত যাত্রা কে ঘিরে। রাতের খাওয়া শেষ করে সকলে বসার জায়্গা চেয়ার, বেনচি দখল করলেও আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ ছিল না তাতে।মাঠের মাঝে স্টেজের সামনে শতরন্চিতে বসে যুদ্ধ দেখতে য়েমন গায়ে কাঁটা দিত তেমন ভালোও লাগত। অধীর অাগ্রহে তাকিয়ে থাকতাম কখন বাবার পার্ট আসবে। যদিওবা সময় দিতে পারতেন না বলে পার্ট টা থাকত কাটা সৈনিক এর তবুও স্টেজে এসে তলোয়ার চালাচ্ছে দেখে বাসনা হত অামিও বড়ো হয়ে এমন তলোয়ার বাজি করব।যুদ্ধ শেষে বাবা যখন কাটাকুটিতে পরেছেন কাটা ভাবতাম বাবাটা যেন কি। জমিদার বাড়ির হয়ে শেষকালে এক সামান্য সৈনিকের হাতে প্রান দিতে হল তাও বাড়িসুদ্ধু লোকের সামনে! এক আধবার মনে হয়েছে বাবার তলোয়ার সৈনিকটার পেটে ঢুকিয়ে দিলে মন্দ হয় না।

এইভাবে বেড়ে চলেছি আমাদের সেই ঐতিহ্যকে বহন করে। সেই রাসের মাঠে যাত্রা, সেই স্টেজের সামনে বসা। যুদ্ধ দেখা যখন গা সওয়া হয়ে গেছে কিশোর চোখ আনমনে খুঁজতে থাকে অন্য জগত। উলটোদিকের একজোড়া চোখ তার মতন কি একই জিনিষ খুঁজে ফিরছিলো। আমি কি পেলাম, সেই বা কি পেলো খুঁজে। সাহস হয়নি জানার। কি দরকার জানার, তার চেয়ে এই তো বেশ আছি।স্মৃতি আছে, গল্প আছে, আমি আছি। ও আছে একটি রুপকথা।

 

Continue reading