Gallery

Delhi’s pollution and divine intervention

Delhi, India’s capital city is under the cover of pollution. Burning smell attacks and chokes the weaker parts of our body. Health specialists are busy voicing their concern by publishing articles in various online medium. There is no dearth of news, some of  which are contrary to your belief and are of opposite nature, and publishers are guaranteed to receive more views and followers for them. For example, a leading Doctor, during the initial pollution days, urged people to keep windows and doors open in the morning to let fresh air inside. Within hours, another specialist in whatsapp site claimed right time for allowing fresh air entry is in fact in the afternoon slot between 3 to 5 by singing a Tagore song: “Thy southerly wind”! After all its the wind, or lack of it, is the root cause behind all this agony other than man made issues.

There has been no end to Do’s and Don’ts in the public forum. A renowned Cardiologists of Apollo Hospital advised to stay indoor, no exercise, no walking/running, lie down and slowly breathe in and out. He even cautioned against fast and deep breathing as dust and soot will enter the body and has the capability to make our lungs vulnerable to the disease. Better to lie down motionless in the Yoga Nidra pose and listen to the sounds of crickets in absolute silence. Assume that you are a divine soul, waiting to  escape in the land of abundance where everything will be pure. Oh what a joy! In Tagore’s word, “Oh Lord! let us take our boat towards the ocean of peace”.

One more Specialist created a ruckus in the women’s group by saying lighting scented sticks meant for goddess is a big no no as it increases indoor pollution. Silently Pray to the almighty goddess to protect us from the impending danger this time through her kindness. Or otherwise you can even sing “Hey, let the storm descends” and observe that still wind is making way for storm only to blow away pollution.

Simple people that we are, to dream is our birthright. We dream at night, we day dream about golden eagle of poet Jibanananda Das or Meghbalika ( A girl on the cloud who brings rain) by poet Joy Goswami. We even dream through Tagore’s song “I remember in my dreams, when you knocked my door”.  I dream of a pure and unadulterated relations with each others, I dream of a blue necked bird who roams freely in clear blue sky. And lastly to get a feel of fresh air in Delhi’s park which is as divine as any parks of New York or Singapore.

 

 

 

Advertisements
Gallery

আমার দুষনমুক্ত দিল্লির স্বপ্ন

দিল্লিতে এখন আপাতকালীন স্থিতি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মতামত বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে জানাতে ব্যস্ত। যে যত চমকপ্রদ খবর দিতে পারবে তার ভক্তসংখ্যার ততো বাড়বাড়ন্ত।বিপরীত্ধর্মী খবর হলে তো আরো ভাল​। যেমন ধরুন একজন বললেন সকাল বেলায় ফ্রেশ এয়ার পাওয়া যায় সুতরাং জানালা দরজা তখন খোলা রাখুন।অন্যজন বলে উঠলেন মোটেই নয় বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটা প্রদুষন কম তখন খোলা হাওয়া গাইতে গাইতে দখ্খিন দিকের জানলা খুলে দিন।

বিধিনিষেধের অন্ত নেই, এপোলোর এক নামি দামি ডাকতার উপদেশ দিলেন ঘরের মধ্যেই থাকুন, কোনো ব্যায়াম নয়, হাঁটা চলা বন্ধ এমনকি শ্বাস নেবেন ধীরে। জোরে নিঃশ্বাস নিয়েছেন কি ভুগেছেন। ধুলো, ছাই আপনার শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসযন্ত্রকে অকেজো করে দিতে পারে।তার চেয়ে চোখ বন্ধ করে যোগোনিদ্রায় শুয়ে থাকুন, শুনতে চেষ্টা করুন ঝিঁঝিঁপোকার ডাক। মনে করুন আপনি এক অশরীরী আত্মা, ওই মহাসিন্ধুর ওপারে ভাসতে ভাসতে চলেছেন পরমাত্মার সাথে মিলনের জন্যে। আহা কি আনন্দ​, কি শান্তি।সমুখে শান্তি পারাবার, ভাসাও তরণি হে কর্নধার।

আর একজন তো মহিলা মহলে প্রতিবাদের ঝড় তুলে ফেললেন এই বলে যে ভগবানের অারাধনার সম​য় ধুপ জ্বালানো নৈব নৈব চ।মনে মনে প্রার্থনা করুন মাগো তোমার অপার করুনা এবারের মত বিপদ কাটিয়ে দাও মা। অথবা গাইতে পারেন “ওরে ঝড় নেমে আয়”। দেখবেন মৃদুমন্দ হাওয়া কখন যে উন্মত্ত সমীরন হ​য়ে প্রদুষনকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেছে বহুদুরে।

আমরা সাদামাটা মানুষ, স্ব্প্ন দেখা আমাদের জন্মগত​। সেই যে জীবনানন্দের সোনালি চিল, বনলতা সেন থেকে শুরু হল, রবিঠাকুরের কলমের ছোঁয়ায় তা পুর্নতা পেলো তার গানে “স্বপ্নে আমার মনে হল​, কখন ঘা দিলে আমার দ্বারে”। স্বপ্ন দেখি দুষনহীন মানুষ মানুষের সম্পর্কের, স্বপ্ন দেখি এক নীলকন্ঠ পাখি যে অমলিন নীল আকাশে স্ব্চ্ছন্দে ঘুরে বেড়ায়। আর স্বপ্ন দেখি দিল্লির পার্কে অনুভব করছি দুষনমুক্ত অফুরন্ত বাতাস।

Gallery

আমার প্রিয় আমগাছ

আমগাছটা বড় রাস্তার পাশে আমাদের আর কাকাদের বাড়ির সীমানা চিহ্নিতকারী হিসাবে তার একমাথা ঝাঁকড়া চুল নিয়ে বিরাজমান ছিল। যেহেতু গাছটি সীমানায় অবস্থিত তার ফল মানে আমের অধিকার নিয়ে একটা অহম ভাব থাকতো। এক বাড়ির লোকে দু একটা আম পাড়লেই অন্য বাড়ি রনং দেহি মনোভাব নিয়ে তেড়ে যেত। মধ্যিখান থেকে লাভ হত পাড়ার ছেলেদের। দুপুরে সবাই যখন দিবানিদ্রায় মগ্ন তখন পাঁচিল পেরিয়ে গাছে চ​ড়ে কাজ শেষ মানে আমের দফারফা। কখনো আবার ইঁটবর্ষন হত রাস্তা থেকেই।

আমগাছের সাথে জড়িত একটি কাহিনি মনে পরলো। বাবা ডেইলি প্যাসেনজারি করে বাড়িফিরতে ফিরতে রাত গড়িয়ে যেত​। বাবা বাড়ি ফিরতেই মার অনুযোগ দুই ছেলে এত মারপিট করেছে যে বাড়িতে তিষ্টানো দায় হ​য়ে পড়েছে। যেহেতু বড়ো তাই দোষী সাব্যস্ত করে বাবা অামাকে বাইরে বের করে দরজায় খিল তুলে দিলেন। বাইরে তখন নিকষ অন্ধকার বোধ হ​য় অমাবস্যা হবে। এমন মিশকালো অন্ধকারে আমি আর সামনে সেই অতি পরিচিত আমগাছ। মনে হল যেন সে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে অামার আসার অপেখ্খায়। তার সম্মোহনি শক্তি উপেখ্খা করতে পারলাম না। গাছে চ​ড়া বিদ্যা জানার জন্যে ওপরে মগডালে চড়তে অসুবিধা হল না। কি অদ্ভুত নিস্তব্ধ্তা, কি অপুর্ব শান্তি। নিকষ কালো বিদীর্ন করে জোনাকির আলো আর ঝিঁঝিঁপোকার ডাক। মাঝে মাঝে ভেসে আসা শেয়ালের ডাক একটু বেমানান মনে হলেও বেশ লাগছিল ওপর থেকে নিচের জগতকে দেখা। হঠাৎ বাবার ডাকে সম্বিৎ ফিরে এল​। চেয়ে দেখি বাবা মা অামাকে নিয়ে যেতে এসেছে। মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি চাপল। ভাবলাম এখনি রসভঙগ হতে দেব না। আরো ঘন হ​য়ে পাতার আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। টর্চ এর আলোয় অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রেগেমেগে বাবা অাবার দরজা বন্ধ করে দিলেন। ভাবলেন ছেলেটা নিশ্চয় পাঁচিল ডিঙিয়ে বন্ধুর বাড়ি চম্পট দিয়েছে।

ভেতর থেকে হাতা খুন্তির শব্দ ভেসে আসছে আর মনটা অভিমানে ভরে উঠছে। অামাকে বাদ দিয়ে কি করে বাবা মা খাবার তোড়জোড় করে। না ডাকলে খেতে যাবই না।এদিকে পেটের খিদে তখন জানান দিতে শুরু করেছে।উপায়ান্তর না দেখে গাছ থেকে নেমে আমি তখন একটা ইঁটের টুকরো দিয়ে দরজার সামনের দেয়ালে বড়ো ব​ড়ো হরফে লিখলাম “আর একবার ডাকিলেই খাইতে আসিব​”। দেখাই যাক কি হয় ভেবে অাবার গাছে চ​ড়ে পরলাম। বাবা খেয়ে নিলেও মা তো মমতাম​য়ী। ছেলে না খেলে নিজের মুখে অন্ন দেবেন কি করে। সেজন্যে লন্ঠন হাতে সদর দরজা খুলেই চোখে পড়ল “আর একবার ডাকিলেই খাইতে আসিব​”।এবৎ সাথে সাথেই বহু প্রতিখ্খিত ডাক বাবু খেতে আয় আমিও খেতে পারছি না। ব্যাস একলাফে অামিও আমগাছ থেকে ঝুপ করে মাটিতে এবং একছুটে খাবার অাসনে। জানিনা তখন আমগাছটি প্রিয়্জন বিচ্ছেদে শোক প্রকাশ করছিল কিনা।

Gallery

আমার দেখা বর্ষাকাল

আমার বর্ষাকাল মানে নিজের চোখে দেখা গ্রামবাঙ্লার বর্ষাকাল। সেই জল থৈ থৈ মাঠ, পুকুর, কর্দলিপ্ত ফুটবলের বিকেল, জুঁই, বেল এর গন্ধে মাতোয়ারা সন্ধে আর ব্যাঙ এর ডাকে সঘন গহন রাত্রি।

প্রথম বর্ষনের পর থেকেই মনে আছে দেখতাম পুকুরের জল কতটা বাড়লো। জল যখন ছাপাছাপি হ​য়ে রাস্তায় উঠব উঠব করছে সেই পরিপুর্নতায় মনটা খুশিতে ভরে উঠতো। আর জলে ঝাঁপ দেবার জন্যে হন্যে হয়ে ঘড়ির দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকতাম কখন এগারোটা বাজবে। বৃষ্টিতে সাঁতার কাটার মজাই অালাদা যদিও ডুব সাঁতার না জানার দরুন জলের নিচের রাজ্যটা অধরাই র​য়ে গেল​। একবার হল কি, আমি তখন মাঝগঙগায় (আগে ছিল আদিগঙগা এখন মজে মজে হ​য়েছে পুকুর) হঠাৎই মনে হল কে যেন অামাকে টেনে জলের নিচে নিয়ে যাচ্ছে। একে সকাল থেকে বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে, ঘাট ফাঁকা ছিল সেকারনে। কে আমাকে জলের নিচে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে, আর কেই বা বাঁচাবে। কিছু আগে একটা জলঢোঁড়া সাপকে পাস দিয়ে যেতে দেখেছি কিন্তু সে তো আমার থেকেও নিরীহ এক প্রজাতি। তবে কি জলের নিচের অজানা রাজ্য থেকে কোনো রহস্যময়ি প্রানী। প্রানপনে পা ছুঁড়তেই প্রানীটি আমাকে ছেড়ে দিল। কোনক্রমে পাড়ে পৌঁছে দম পুনরুদ্ধার করছি এমন সম​য় পেছন থেকে হাসির শব্দ​। চেয়ে দেখি আমার বন্ধু। নাম তার বোলতা যদিও বলার থেকে করাকেই বেশি পছন্দ করে এবং এখেত্রে কখন যে অজান্তে এসে ডুবসাঁতারে কাজ করে দিয়েছে।

বর্ষাকালের রাত মানেই রহস্যঘেরা এক জগত যেখানে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাক বা ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা শ্রুতিমধুর শব্দ সহজেই অামাদের স্বপ্নরাজ্যে পৌঁছে দিত​। এমনই এক বর্ষার রাতে টিপ টিপ বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে। রাত তখন প্রায় এগারোটা অথচ বাবা বাড়ি ফেরেননি। মা উৎকন্ঠা চেপে রাখতে না পেরে আমাকে পাশের পাড়ায় বন্ধুর বাড়িতে খুঁজে অাসতে বললেন। বাইরে থেকে থেকেই বিদ্যুত চমকাচ্ছে সাথে মেঘ গর্জন। কিন্তু উপায় নেই অগত্যা মায়ের শেখানো রাম নাম করতে করতে হাতে একটা টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়া। অন্য পাড়াতে যেতে হলে পুকুর পাড় দিয়ে একটা রাস্তা দিয়ে প্রায় একশ মিটার যেতে হবে। সেই জায়্গায় এসে মনে পড়ল আরে এখানেই তো পুকুরপাড়ে সেই বুড়িটা থাকত কিছুদিন অাগে যে মারা গেল​। ভ​য়ে হাত পা হিম হ​য়ে আসছে কিন্তু যাব ভেবে জোরে জোরে রাম নাম করতে করতে যেই না এগনো ওমনি মনে হল শুনতে পেলাম সাবধান বানী ” বাড়ি যা, এক পা এগোলে কপালে দুর্ভোগ আছে”। আত্মারাম খাঁচাছাড়া, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এক ছুটে সোজা বাড়িতে গিয়ে নিশ্বাস ফেললাম। বাড়িতে এসে দেখি বাবা মস্ত একটা দু কেজি মাছ নিয়ে আগেই হাজির। মুখে কি পরিতৃপ্তির হাসি অনেক দিন পরে আজ টোপ গিলেছে মাছ বাবাজি।

পরের দিন সকালে স্কুল যাবার রাস্তায় দেখলাম বৃষ্টিতে আমাদের আর পাশের পুকুর এক হ​য়ে গেছে। কিছু মাছ এক পুকুর থেকে আর এক পুকুরে যাচ্ছে রাস্তার ওপর দিয়ে। অনেকে বলাবলি করছে দুপাড়ার মাঝামাঝি নিচু এলাকাতে কোমর সমান জল, রাতে নাকি আরো ছিল​। কি ভাগ্যি আমি আগে যাই নি, তবে কি তবে কি বুড়িটা সেই বার্তা দিতে চেয়েছিল​। তবে কি সেই সম​য় এমন কিছু অদৃশ্য শক্তি অনেক বিপদ থেকে রখ্খ্যা করত আমাদের।হবে নিশ্চয়।

Gallery

ছিন্নস্মৃতির ফাগুন

ছিন্নস্মৃতিতে এসেছে ফাগুন
পলাশ শিমুল কৃষ্নচুড়ায় আগুন।
শিমুলতলায় দে দোল দোল
কদমফুলের পন্চমদোল
সাথে মৃদঙ করতাল ঢোল
শ্যামসুন্দর তলায় হট্টগোল
আম্রশাখায় লেগেছে বোল
এসেছে ফাগুন দে দোল দোল।

এসেছে ফাগুন দুয়ার খোল
রতন চয়ন কর আনমোল।
বসন্ত ছোঁয়া শরীরে
অহম পেরিয়ে মনের গভীরে
কুহুতানের সম্মোহনের সুরে
পাখির নিড়ের চোখদুটি ঘিরে
দখিন হাওয়ায় মর্মরিয়ে
এসেছে ফাগুন গুনগুনিয়ে।

Status

My short stories of 2016

Flashback of heady seventies! I have made an honest attempt to write a series of short stories reflecting back the life in a small town 40 years ago. Some of my stories revolved around presence of mystical trees like Bamboo, Wood Apple. And in association of Ghosts or ‘Atma’ of different times morning, noon and night, they indeed created a heady cocktail!

A plump old Woman and her intriguing attachment with a tree (Drumstick tree and an old Woman’s Voice ) left me wondering few unexplained facts of life. And not to forget all these magical moments which defined our existence and enriched us during our growing up years.

Durga Puja ( Durga in my house ) was less about enjoying and more about observing rituals like half day of fasting, listening with devotions our priest chanting Mantras, taking pride in bell ringing during evening ‘Aarti’ before others could grab & the list is unending. On the contrary Krishna RasYatra (srikrsna’s rasayatra and a fairytale) was celebrated with pomp and gaiety. ‘Pandal’ (Bamboo made structure) adorned with paper cuttings and shola make birds hanging in the center all round brought festivities in our drooling eyes.

Everything was there in moderation; there was entertainment, punishment and of course mystery. The mystical environment always mesmerized and embraced us. The pleasant smell of heavenly golden color flower on Top of the terrace of our Deity room, The murmur of a mango tree on a typical Windy Umbrella Summer Afternoon, The Light of The Glow-worm during twinkling, Pitch Dark Nights out in the open all were ingredients of a forgotten era.

And when life became all too predictable around their presence, there was those beautiful black eyes to fall upon. It reminded of a quotation in an Art gallery Famous ‘Blessed are they who see Beautiful Things in humble Places’ . I ought to say that I made peace with those radiant black henna applied eyes manifested as bird’s nest in a ‘Jibananda classic’.

Audio

শ্রীকৃষ্নের রাসযাত্রা ও একটি রুপকথা

শ্রীকৃষ্নের রাসযাত্রা আমাদের বাড়ির এক বিরাট আকর্ষন ছিল। দুর্গাপুজায় যেমন আচার বিচার্, রীতি নীতি উপবাস করতে দিন কেটে যেত রাসযাত্রা ছিল তার বিপরিত। সকাল থেকে ঠাকুরের মন্দির সাজানো, প্যান্ডাল সাজানো শোলার হরেক রকমের পাখি আর কাগজের তৈরি চেন দিয়ে। রেলওয়ে স্টেশনে একটি প্রস্তর ফলকে “শ্রীশ্রী নন্দনন্দন জিউর এর রাসযাত্রা উপলখ্খ্যে এইখানে নামুন” লেখাটি আমাদের গর্বের বস্তু ছিল। আমাদের মাঠে যাত্রাপালা আর পাশের মিত্তিরদের মাঠে পুতুলনাচ আর খাবার দাবার জিনিষ। সে এক দিন ছিল; জিলিপি ভাজা সুরু হলেই কে প্রথম জিলিপি আনতে পারবে সেই নিয়ে কাকাদের সাথে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। আর পুতুল নাচের রহস্য সন্ধান করতে বেশ কয়েকটা বসন্ত পার হয়ে গেছে।

এবার আসা যাক আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু সন্ধাবেলার প্রোগ্রাম এ। রাসপুজো শেষ হলে ঠাকুরনাচের তালে তালে অামাদের চৈতন্য মহাপ্রভু স্টাইল এ নাচ চলত একবার শ্যাম আর একবার রাধা কে কেন্দ্র করে। কখনো “শ্যাম নব বিশরো বামে” আবার কখনো বা “রাধে রাধে রাধে রাধে, শ্রীরাধে জয় রাধে রাধে”। কথায় আছে না ছোটো বেলার শেখা কখনো বৃথা যায় না তাই এখনও সেই গৌড়ীয় নৃত্য সুযোগ পাওয়া মাত্রই প্রকাশ্যে চলে আসে।

আসল উত্তেজনা ঘিরে থাকত যাত্রা কে ঘিরে। রাতের খাওয়া শেষ করে সকলে বসার জায়্গা চেয়ার, বেনচি দখল করলেও আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ ছিল না তাতে।মাঠের মাঝে স্টেজের সামনে শতরন্চিতে বসে যুদ্ধ দেখতে য়েমন গায়ে কাঁটা দিত তেমন ভালোও লাগত। অধীর অাগ্রহে তাকিয়ে থাকতাম কখন বাবার পার্ট আসবে। যদিওবা সময় দিতে পারতেন না বলে পার্ট টা থাকত কাটা সৈনিক এর তবুও স্টেজে এসে তলোয়ার চালাচ্ছে দেখে বাসনা হত অামিও বড়ো হয়ে এমন তলোয়ার বাজি করব।যুদ্ধ শেষে বাবা যখন কাটাকুটিতে পরেছেন কাটা ভাবতাম বাবাটা যেন কি। জমিদার বাড়ির হয়ে শেষকালে এক সামান্য সৈনিকের হাতে প্রান দিতে হল তাও বাড়িসুদ্ধু লোকের সামনে! এক আধবার মনে হয়েছে বাবার তলোয়ার সৈনিকটার পেটে ঢুকিয়ে দিলে মন্দ হয় না।

এইভাবে বেড়ে চলেছি আমাদের সেই ঐতিহ্যকে বহন করে। সেই রাসের মাঠে যাত্রা, সেই স্টেজের সামনে বসা। যুদ্ধ দেখা যখন গা সওয়া হয়ে গেছে কিশোর চোখ আনমনে খুঁজতে থাকে অন্য জগত। উলটোদিকের একজোড়া চোখ তার মতন কি একই জিনিষ খুঁজে ফিরছিলো। আমি কি পেলাম, সেই বা কি পেলো খুঁজে। সাহস হয়নি জানার। কি দরকার জানার, তার চেয়ে এই তো বেশ আছি।স্মৃতি আছে, গল্প আছে, আমি আছি। ও আছে একটি রুপকথা।

 

Continue reading